দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বর্তমান শতাব্দীতে উরুগুয়ে দল বলতে লুইস সুয়ারেজ ও দিয়েগো ফোরলানের নামই সবাই শুনে থাকবে। এই দুই কিংবদন্তীতুল্য ফুটবলার উরুগুয়েকে পুরো বিশ্ব মঞ্চে পরিচয় করিয়েছেন গেল দুই দশকে ২০১০ বিশ্বকাপে ৪র্থ হয়েছিল উরুগুয়ে। এখন আর বিশ্বকাপের প্রথম দুইবারের বিজয়ীদের জৌলুশ নেই। এবার কেপ ভার্দের মতো ছোট দলের বিপক্ষে ড্র করলো তারা। আর এতে একটি অভাবও ফুটে উঠেছে তাদের। ব্যক্তিটির নাম লুইস সুয়ারেজ।
রোববার কেপ ভার্দের সাথে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটি উরুগুয়ে জাতীয় দল এবং তাদের অন্যতম সেরা আইডল লুইস সুয়ারেজকে ঘিরে একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। ১৯৭৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ম্যাচে লুইস সুয়ারেজকে ছাড়া লা সেলেস্তেরা মাত্র একটি জয় পেয়েছে।
মিয়ামিতে এই ড্র ২০২৬ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের হারের ধারাকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। কেপ ভার্দের মুখোমুখি হওয়ার আগে মার্সেলো বিয়েলসার দল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল এবং এখন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার চাপ নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছাতে হবে।
এই তথ্যটি আরও বেশি চমকপ্রদ কারণ, এই সময়ে সুয়ারেজকে ছাড়া উরুগুয়ের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়টি এসেছিল ১৯৯০ সালে। যখন লা সেলেস্তে ইতালিতে হওয়া ওই বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল। এরপর থেকে উরুগুয়ের অন্য সব বিশ্বকাপ জয়ে সুয়ারেজ স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে ছিলেন। ১৯৯৪, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগই পায়নি উরুগুয়ে। ২০০২ বিশ্বকাপে কোন ম্যাচ না জিতেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় কিন্তু ২০০৬ সালে আবারও বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারায়। এরপর ২০১০ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপে খেলে যাচ্ছে তারা আর সুয়ারেজও দলে ছিলেন ২০২২ সাল পর্যন্ত।
উরুগুয়ে জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজ চারটি বিশ্বকাপে (২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২) খেলেছেন এবং উরুগুয়ের সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই ম্যাচগুলোতে অংশ নেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। যদিও সুযোগ পাননি। দল থেকে বাদ পড়ায় এই ৯ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় গ্যালারি থেকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে দলের ড্র করা ম্যাচটি দেখলেন।
আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাক্সি আরাউহো এবং কানোবিওর গোলে উরুগুয়ে খেলায় ফিরে এলেও আবারও রক্ষণভাগের ভুলের শিকার হয় এবং দ্বিতীয়ার্ধে হেলিও ভারেলার কাছে একটি সমতাসূচক গোল হজম করে। এই ফলাফলের কারণে দলটি প্রতিযোগিতায় জয়হীন থাকে এবং স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের জন্য চাপ আরও বেড়ে যায়।
বাছাইপর্ব যদি আগে থেকেই কঠিন মনে হয়ে থাকে, তবে সুয়ারেজকে ছাড়া দলের রেকর্ড উরুগুয়ের দলটির জন্য উদ্বেগের আরও একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বোপরি, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে, উরুগুয়ে যেমন লুইসিটোর উপর নির্ভর করে তেমনিভাবে অনেক কম দলই আছে যারা ড্র এবং পরাজয়কে জয়ে পরিণত করতে ‘একজন’ খেলোয়াড়ের উপর এতটা নির্ভর করে।
কে